নকশালদের দমন করতে সক্রিয় হিন্দুত্ব সংগঠনের সদস্যরা। কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক একদিন পত্রিকা তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্রিয় হয়ে উঠছে। অনলাইন পাঠকদের জন্য দৈনিক একদিন পত্রিকার প্রতিবেদন হুব…
নকশালদের দমন করতে সক্রিয় হিন্দুত্ব সংগঠনের সদস্যরা। কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক একদিন পত্রিকা তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্রিয় হয়ে উঠছে। অনলাইন পাঠকদের জন্য দৈনিক একদিন পত্রিকার প্রতিবেদন হুবহু তুলে দেওয়া হল।
এবার বাংলায় ‘শহুরে নকশাল' দমন করার নামে ভিন্নমতাবলম্বী প্রগতিশীল যাদবপুরের ছাত্র-যুবদের রাস্তায় নেমে হেনস্তার মারধর করা। সিদ্ধান্ত নিল হিন্দুত্ব সংগঠনগুলাে। সম্প্রতি, কলকাতার স্টার থিয়েটারে জাতীয় সংগীত নামছে হিন্দু চলাকালীন উঠে না দাঁড়ানাের জন্য কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীর ওপর নেমে আসা আক্রমণ হােক কিংবা বিজয়া দশমী উপলক্ষে সংঘপ্রধান মােহন ভাগবতের সতর্কীকরণই হােক, হিন্দুত্ব পন্হীরা যে এবার সরাসরি তথাকথিত শহুরে নকশালদের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করতে নামবে তা বেশ স্পষ্ট।
সম্প্রতি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এক নেতা জানিয়েছেন, প্রতি আক্রমণ না শুরু করলে ‘রাষ্ট্র বিরােধিতা বাড়বে। সেই জন্যই প্রগতিশীলতার ‘ভেকধারী’ রাষ্ট্রদ্রোহীদের চিহ্নিত করা প্রয়ােজন। পালটা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জয়দীপ দাস বলেন, রাষ্ট্র থাকলে রাষ্ট্রবিরােধিতা থাকবেই। কিন্তু, সাধারণ মানুষের ওপর জোর করে নানা ফতােয়া চাপিয়ে দিয়ে নির্বিচারে শােষণ ও নিপীড়ন করে চলেছে ‘কল্যাণকামী’ তকমাধারী রাষ্ট্রের শাসক। জয়দীপের বক্তব্য, গেরুয়া সরকারের বিরােধিতা করার জেরে ভারভারা রাও-সহ একাধিক সমাজকর্মীকে গৃহবন্দি থাকতে হচ্ছে। রাষ্ট্র তাঁদের চিহ্নিত করেছে ‘শহুরে নকশাল' হিসাবে। শুধু তাই নয়, গৃহবন্দিদের পরিবারের সদস্যদেরও নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এবার সেই একই ছবি ধরা পড়তে শুরু করেছে বাংলায়।
প্রসঙ্গত, প্রেক্ষাগৃহে জাতীয় সংগীত চলাকালীন উঠে দাঁড়ানাে বাধ্যতামূলক বলে কোনও নির্দিষ্ট আইন নেই বলেই রায় দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। তা সত্ত্বেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের কয়েকজন প্রাক্তনীর ওপর সম্প্রতি স্টার থিয়েটারে বর্বরােচিত আক্রমণ করা হয়। তাঁরা জাতীয় সংগীত চলাকালীন উঠে দাঁড়াননি। থিয়েটারে গালগালি, কটুক্তির পাশাপাশি পড়ুয়া ও পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে মারধরও হয়। করা হয় তাঁদের। ফলে তাঁদের বেরিয়ে যেতে হয় সিনেমার বিরতি অন্য দিকে, বিজয়া দশমী উপলক্ষে সংঘ প্রধান মােহন ভাগবত বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন, কোনওভাবেই ‘শহুরে নকশালদের মাথাচাড়া দিতে দেওয়া চলবে না।
সংঘের মতে, বিগত কয়েক বছর ধরে বামপন্থী বুদ্ধিজীবীদের নামে মাওবাদীরা কলকাতা শহরে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে। এরা সমাজের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক। এরা বিচ্ছিন্নতাবাদের কথা প্রচার করছে। ভাগবতের কথায়, “যারা দুবৃত্তায়ন এবং দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘােষণা করে, তারা কখনও মানুষের ভালাে চাইতে পারে না। ভােটের লক্ষ্যে আরএসএস এবং হিন্দু পরিষদের মতাে সংগঠনগুলাের নজরে রয়েছে শহরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলাের প্রগতিশীল ছাত্র-ছাত্রীরা। তাদের অনেকের গতিবিধি সন্দেহজনক বলে দাবি করছে সংঘ পরিবার। তাদের দাবি, এই ছাত্র-ছাত্রীরা শহরের মধ্যেই মাওবাদীদের হয়ে প্রচ্ছন্ন ভূমিকায় কাজ করছে।
এদের মধ্যে অনেকেই নাকি আদতে শহুরে নকশাল এবং অন্ধ, ওডিশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে গেরিলা যুদ্ধে ট্রেনিং-প্রাপ্ত! তাদের দাবি ভিত্তিহীন হলেও ইতিমধ্যেই বাংলার জঙ্গলমহল এলাকাগুলােতে নিজেদের প্রতিনিধি পাঠিয়ে নজরদারি চালাতে শুরু করেছে আরএসএস। ২০১৯-এর লােকসভা ভােটকে কেন্দ্র করেই হিন্দুত্ববাদীরা এই পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। যেহেতু ভােটারদের অধিকাংশই নবীন প্রজন্ম, তাই ভয় দেখিয়ে তাদের মানসিকতাকে দমন করার চেষ্টার অভিযােগ তথাকথিত হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে উঠছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে। তথ্য ও ছবি একদিন পত্রিকা।

No comments