তিন তালাক ইস্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা গুলাম নবী আজাদ। শনিবার তিনি বলেন, ‘মুসলিম স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভোট ব্যাংক কায়েম করা থেকে বিজেপি’…
তিন তালাক ইস্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা গুলাম নবী আজাদ। শনিবার তিনি বলেন, ‘মুসলিম স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভোট ব্যাংক কায়েম করা থেকে বিজেপি’র বিরত থাকা উচিত।’
শনিবার প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদি তালাক নিয়ে রাজনীতি না করার আহ্বান জানান। তার ওই মন্তব্যের
সমালোচনা করে গুলাম নবী আজাদ বলেন, ‘বিজেপি যেভাবে তিন তালাকের রাজনীতিকরণ
করছে তাকে কেউ সঠিক বলতে পারে না। আল কুরআনে তালাকের এক দীর্ঘ প্রক্রিয়া
রয়েছে।’
আজাদ বলেন, ‘হাজার বছর
ধরে আমাদের দেশ এবং সমাজ গড়ে উঠছে। এরমধ্যে কিছু ভুলভ্রান্তি এসে গেছে
যেরকম সতী প্রথা। সমাজ তাকে দূর করেছে। ইসলামের মধ্যেও কিছু বিষয়ে পরিবর্তন
এসেছে, এ নিয়ে সমাজে আলাপ-আলোচনা চলছে। যেটা ভালো এবং ইসলামের অনুরূপ
বিষয়, তা থাকবে এবং যা খারাপ তা সময়ের সাথে সাথে ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘সমাজে যখন আগে থেকেই ওই
ইস্যুতে আলাপ আলোচনা চলছে, বিষয়টি আদালতের সামনেও বিচারাধীন রয়েছে এরকম
অবস্থায় বিজেপি’র অনর্থক মুসলিম স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে নয়া ভোট ব্যাংক
তৈরি করার চেষ্টা করা উচিত নয়।’
আজাদ বলেন,
‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়, কিন্তু আমি বলতে চাই
খোদ প্রধানমন্ত্রীই এর রাজনীতিকরণে সবচেয়ে বড় চাম্পিয়ন, উনিই ওই ইস্যুর
সূচনা করেছেন। এ নিয়ে রাজনীতি করবেন না বলাটাও রাজনীতি করা।’
তিনি বলেন, ‘ওই
ইস্যুতে রাজনীতি কে করছে? এই ইস্যুতে আইএডিএমকে, ডিএমকে, জেডিইউ, বিজেডি,
এসপি, বিএসপি বা কংগ্রেসের কোনো নেতার কাছ থেকে কী কোনো কথা শুনেছেন? ভারতে
এত দল এবং নেতা রয়েছে কোনো এক নেতার নাম দিন যিনি ওই ইস্যুতে পদক্ষেপ
নিয়েছেন।’
আজাদ বলেন,
‘প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিজেপি নেতা এবং আরএসএস কর্মকর্তারা ২৪ ঘণ্টা
ধরে নির্বাচনের আগে থেকে ওই ইস্যুর রাজনীতিকরণ করছেন। সবার আগে মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী আপনি অন্যদের উপদেশ দেয়া বন্ধ করে আপনার দলকে নিয়ন্ত্রণ
করুন।’
তিনি বলেন, ‘কোনো
মুসলিম কুরআনের কথা থেকে ভিন্ন হতে পারে না। কথায় কথায় তিন তালাক দেয়ার কথা
কোনো মুসলিম ভালো মনে করে না এবং তা মানতে পারে না। এটা শরীয়াহ, কুরআন এবং
ইসলামের বিরোধী।’
অন্যদিকে, উত্তর প্রদেশের সাবেক
প্রভাবশালী মন্ত্রী মুহাম্মদ আজম খান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির
সমালোচনা করে বলেছেন, ‘তিন তালাকের বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি এসেছে
কিন্তু মুসলিম নারীদের আরো সমস্যা আছে। ওই সকল গো-রক্ষক যারা তাদের সংসারকে
বরবাদ করে দিচ্ছে, যে নারী তার সন্তানকে হারিয়েছে, যে তরুণীর বিয়ে হয়নি
তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখান। যদি ওই নারীদের স্বামীই জীবিত না থাকে তাহলে
তালাক কোথা থেকে হবে?'
তিনি প্রধানমন্ত্রীর
উদ্দেশে বলেন, অমুসলিম নারীদের বোরকা পরিয়ে মুসলিম এবং ইসলামের বিরুদ্ধে
নিন্দা করা হচ্ছে একটু সেই বিষয়েও ভাবুন।
No comments